*"মিষ্টি বাচ্চারা - জীবিকানির্বাহের জন্য যদিও বা তোমাদের কর্ম করতে হয়, তবুও কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা বাবাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বকে শান্তির দান দিয়ে নিজসম বানানোর সেবা করো l"*প্রশ্ন:-সূর্যবংশী ঘরানায় উঁচু পদ পাওয়ার পুরুষার্থ কি ?*
উত্তর:-১) সূর্যবংশী ঘরানায় উঁচু পদ পেতে হলে বাবাকে স্মরণ করো আর অন্যকে স্মরণ করাও l যত তোমরা স্ব-দর্শন চক্র ঘোরাবে এবং অন্যকেও ঘোরাতে উত্সাহিত করবে ততই উঁচু পদ লাভ করবে l ২) পুরুষার্থ করে পাশ উইথ অনার হও l এমন কোনও কর্ম করোনা যার জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হয় l সাজা প্রাপ্তদের পদ ভ্রষ্ট হয়ে যায় l*গীত:-এই পাপের দুনিয়া থেকে শান্ত, নির্বিঘ্ন দুনিয়ায় নিয়ে চলো....... **ওম্ শান্তি* lএটা বাচ্চাদের প্রার্থণা l কোন বাচ্চাদের ? যারা এখনও বোঝেনি l তোমরা বাচ্চারা জানো, বাবা আমাদের পাপের দুনিয়া থেকে পুণ্য দুনিয়ায় নিয়ে যাচ্ছেন l সেখানে অবিরাম আরাম ; দুঃখের লেশমাত্র নেই l এখন তোমরা তোমাদের অন্তর্মনকে প্রশ্ন করো, আমরা কিভাবে সুখধাম থেকে এই দুঃখধামে এসেছিলাম ! সবাই জানে ভারত প্রচীন দেশ l ভারতই সুখধাম ছিল l দেবী-দেবতাদের একটাই মাত্র রাজ্য ছিল, গড কৃষ্ণ এবং গডেস রাধে অর্থাত্ গড নারায়ণ এবং গডেস লক্ষ্মী রাজ্য শাসন করতেন l তোমরা সবাই জানো, ভারতবাসী কেন তাদের নিজেদের আবারও পতিত ভ্রষ্টাচারী বলছে l তোমরা এও জানো, ভারত সোনার দেশ ছিল l পরশনাথ, পরশনাথিনীর রাজ্য ছিল অর্থাত্ যাঁরা দৈবী বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন তাঁদের রাজ্য ছিল l তাহলে কিভাবে তাঁরা এমন ভ্রষ্টাচারী অবস্থায় পৌঁছালেন ? বাবা বোঝান, আমি এখানে জন্ম নিই কিন্তু আমার জন্ম দিব্য l তোমরা জানো যে, তোমরা শিববংশী এবং প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার-কুমারী l বাবা বুঝিয়েছেন, তোমরা প্রথমে অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসা করো - তোমরা গড ফাদারকে জানো ? তারা বলবে, ফাদার l তোমরা কেন জিজ্ঞাসা করছ, তাঁর সাথে আমাদের সম্বন্ধ কি ? তিনি তো পিতাই ! সমস্ত আত্মা নিরাকার শিববংশী, সুতরাং সকলেই ব্রাদারস l তাহলে সাকার প্রজাপিতা ব্রহ্মার সাথে প্রত্যেকের সম্বন্ধ কি ? সবাই বলবে তিনি পিতা, যাঁকে আদি দেব বলা হয়ে থাকে l শিব, নিরাকার বাবা, তিনি ইমমরটাল অর্থাত্ অবিনশ্বর l আত্মারাও অবিনাশী l তারা তাদের এক সাকার শরীর ছেড়ে অন্য আরেক শরীর নেয় l তোমরা নিরাকার শিববংশী l সেইজন্য শিববংশী তোমরা কুমার কুমারী হতে পারনা l আত্মাদের মধ্যে কুমার-কুমারী হয়না l প্রজাপিতা ব্রহ্মার বাচ্চাদের মধ্যে কুমার -কুমারী আছে l প্রারম্ভকাল থেকেই তোমরা শিববংশী l শিববাবা জন্ম এবং পুনর্জন্মের চক্রে আসেননা, কিন্তু তোমরা আত্মারা পুনর্জন্মে প্রবেশ করো l আচ্ছা তোমরা তো পুণ্য আত্মা ছিলে তাহলে কিভাবে পাপ আত্মায় পরিণত হলে ? বাবা বলেন, তোমরা ভারতবাসী নিজেরাই নিজেদের চড় মেরেছ l তোমরা তাঁকে পরমপিতা বলো কিন্তু তারপরে আবার বলো তিনি সর্বব্যাপী l যে বাবা তোমাদের পুণ্য আত্মা বানাচ্ছেন তোমরা তাঁকে বিড়াল কুকুরের মধ্যে এবং নুড়ি-পাথরের মধ্যে রেখে দিচ্ছ ! তোমাদের তো তিনি বেহদের বাবা যাঁকে তোমরা স্মরণ করো ! প্রজাপিতা ব্রহ্মামুখ দ্বারা তিনি ব্রাহ্মণ রচনা করেন l তোমরা ব্রাহ্মণরা তারপর দেবতায় পরিণত হও l একমাত্র বাবাই পতিতকে পবিত্র বানাতে পারেন l তাঁর ডিফেম তোমরাই সবচেয়ে বেশী করেছ এইজন্য তোমাদের বিরুদ্ধে ধর্মরাজ দ্বারা কেস হবে l প্রকৃতপক্ষে, তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু, পাঁচ বিকাররূপী রাবণ l তোমাদের এখন ঈশ্বরীয় বুদ্ধি আর বাকি সকলের আসুরিক বুদ্ধি l রামরাজ্যে তোমরা কত সুখী ছিলে, রাবণ রাজ্যে তোমরা অনেক দুঃখী হয়েছ l সেখানে পবিত্র ডিনায়স্টি, এখানে পতিত ডিনায়স্টি l এখন তোমরা কার মতে চলবে ? এক নিরাকার, তিনিই পতিতপাবন l মানুষ বলে, ঈশ্বর সর্বব্যাপী অথবা তিনি সর্বত্র বিরাজ করেন l সেই নিশ্চয়ের সাথে তারা মানুষকে দিয়ে ঈশ্বরের নামে শপথ নেওয়ায় l একমাত্র তোমরা বাচ্চারা জানো বাবা এই সময় এখানে আছেন l আমরা তা' চোখ দিয়ে দেখি l আত্মা জানে পরমপিতা পরমাত্মা এই শরীরে এসেছেন l তাঁকে আমরা জানি এবং চিনি l শিববাবা আবার একবার ব্রহ্মাতনে প্রবেশ করে বেদ শাস্ত্রের সার এবং সৃষ্টির আদি, মধ্য, অন্তের রহস্য বুঝিয়ে আমাদের ত্রিকালদর্শী বানাচ্ছেন l স্ব-দর্শন চক্রধারীকে ত্রিকালদর্শী বলা হয়ে থাকে l বিষ্ণুহস্তে এই চক্রই দেখানো হয় l তোমরা ব্রাহ্মণরা আবারও সেই দেবতা তৈরি হও l দেব আত্মা এবং শরীর দুইই পবিত্র হয়, সেক্ষেত্রে তোমাদের শরীর তৈরি হয়েছে বিকার থেকে ! এমনকি তাসত্ত্বেও, শেষের দিকে তোমরা আত্মারা পবিত্র হয়ে যাও, কিন্তু তোমাদের শরীর অপবিত্র থাকে সেইজন্য তোমাদের স্ব-দর্শন চক্রধারী দেখানো হয়না l একমাত্র যখন তোমরা সম্পূর্ণ হও, বিষ্ণুর বিজয়মালা হতে পারো l প্রথমে রুদ্রমালা আর তারপরে বিষ্ণুর মালা l রুদ্রমালা নিরাকারের আর তারপরে যখন তারা সাকার দুনিয়ায় এসে রাজ্য শাসন করে তারা বিষ্ণুর মালা হয়ে যায় l এইসব কথা তোমরা এখন জানো l মানুষ গেয়ে থাকে, হে পতিতপাবন এসো, সুতরাং তিনি নিশ্চয়ই এক হলেন, তাই না ! তোমরা জানো একমাত্র বাবাই সকল পতিতকে পবিত্র বানান, সুতরাং মোস্ট বিলাভেড ইনকর্পোরিয়াল গড ফাদার হলেন পতিতপাবন l তিনি হলেন বড় বাবুল l ছোট বাবাকে তারা সবাই ডাকে কিন্তু যখন তারা দুঃখী হয় তখন পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করে l এইসব জিনিস বুঝতে হবে l প্রথমতঃ, এই একটা বিষয় তাদের বোঝাতে হবে,পরমপিতা পরমাত্মার সাথে তোমাদের সম্পর্ক কি ! মানুষ শিব জয়ন্তী পালন করে l নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মার মহিমা অতি গুরুত্বপুর্ণ l যতবড় পরীক্ষা ততবড় টাইটেল লাভ করতে হবে, তাই না ! বাবার টাইটেল অনেক বড় l দেবতাদের মহিমা কমন l সর্বগুণসম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ . . . .শুরু থেকে মধ্য -অন্ত পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হিংসা এবং দুঃখের কারণ হলো পরস্পরের ওপর কাম কাটারি চালানো l এটাই সবচেয়ে বড় হিংসা l এখন তোমাদের ডবল অহিংসক হতে হবে l ভগবানুবাচ - হে বাচ্চারা, তোমরা আত্মা, আমি পরমাত্মা l তোমরা ৬৩ জন্ম বিষ সাগরে ডুবে আছ l আমি এখন তোমাদের ক্ষীর সাগরে নিয়ে যাচ্ছি l অন্তিমের এই অল্প সময়টুকু তোমরা পবিত্রতার প্রতিজ্ঞা করো l এই মত্ খুব ভালো, তাই না ! তারা বলেও, আমাদের পবিত্র করো l পবিত্র আত্মারা মুক্তিতে থাকে, সত্যযুগে জীবনমুক্তিতে l বাবা বলেন, সূর্যবংশী হতে চাইলে সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করো l আমাকে স্মরণ করো এবং অন্যদেরও স্মরণ করাও l তোমরা যত স্ব-দর্শন চক্রধারী হবে এবং অন্যকেও তদ্রূপ করাবে ততই তোমরা উঁচু পদ লাভ করতে পারবে l এখন দেরাদুন নিবাসী প্রেম বচ্চিকে দেখ l দেরাদুন নিবাসী সবাই তো স্ব-দর্শন চক্রধারী ছিলনা l তাহলে এখন তারা সেইরকম হলো কি করে ? প্রেম বচ্চি তাদেরকে নিজ সমান বানিয়েছে l এইভাবে নিজসম বানাতে বানাতে ঝাড়ের বৃদ্ধি হয় l দৃষ্টিহীনকে দৃষ্টি দেওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে তাই না ! আট ঘণ্টা তো তোমাদের ছুটি ! জীবিকার্জনের জন্য তোমাদের ব্যবসাদি করতে যেখানেই যাওনা কেন, আমাকে স্মরণ করো l তোমরা বাবাকে যত স্মরণ করবে, সারা বিশ্বে তত শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারবে l যোগের দ্বারা শান্তি দান কোনও ডিফিকাল্ট কিছু নয় l মাঝে মাঝে যোগে বসানো হয়, যাতে সংগঠনের বল একত্রিত হয়ে যায় l বাবা বুঝিয়েছেন, শিববাবাকে স্মরণ করে তাঁকে বলো - বাবা, এই একজন আমাদের কুলের, এর বুদ্ধির তালা খুলে দাও l স্মরণের এটাও একটা ভালো কৌশল l এই প্র্যাকটিস করতে থাকো l ঘুরতে ফিরতে বাবাকে স্মরণ করতে হবে, বাবা এদের সবাইকে আশিস দাও ! একমাত্র করুণাময় বাবাই আশিস দিতে পারেন l হে ভগবান, একে দয়া করো l এইভাবে তো ভগবানকেই বলা হয়, তাই না ! তিনিই একমাত্র মার্সিফুল, নলেজফুল এবং ব্লিসফুল l তিনি পবিত্রতায় এবং ভালবাসায়ও ফুল l তাহলে ব্রাহ্মণ কুলভূষণ তোমরা, তোমাদের নিজেদের মধ্যে কত ভালোবাসা থাকা উচিত্ ! কারও দুঃখের কারণ হয়োনা l সেখানে তো এমনকি জানোয়ারেরাও কখনও লড়াই করেনা l তোমরা বাচ্চারা ঘরে থেকে সামান্য কথায় ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই ঝগড়া করো l ওখানে জানোয়ার ইত্যাদিও লড়াই করেনা l তোমাদেরও শিখতে হবে l বাবা বলেন, তোমরা না শিখলে বড় রকমের শাস্তি পেতে হবে আর তোমাদের পদও ভ্রষ্ট হয়ে যাবে l আমরা কেন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার মতো কাজ করব ? পাস উইথ অনার হওয়া উচিত্ তাই না ! তোমরা আরও অগ্রসর হলে বাবা সবকিছুর সাক্ষাত্কার করাবেন l সময় এখন খুব অল্পই বাকি আছে, তাই তাড়াতাড়ি করো ! মানুষ অসুস্থ হলে তাদের "রাম, রাম" বলতে বলা হয় l তারা ভিতর থেকেও বলে l শেষের দিকেও কেউ কেউ তীব্রগতিতে এগিয়ে যায় l মেহনত করে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যায় ; তোমরা অনেক ওয়ান্ডার দেখবে l নাটকের শেষ ভাগে ওয়ান্ডারফুল পার্ট থাকে l শেষেরই মহিমা গাওয়া হয়, সেইসময় তোমরা অনেক খুশিতে থাকবে l যার মধ্যে জ্ঞান নেই সে তো সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যাবে l অপারেশন চলাকালীন সার্জন কোনও দুর্বলকে কাছে দাঁড়াতে দেয়না l পার্টিশনের সময় কি হয়েছিল, সবাই দেখেছ তো ! কি হয়েছিল তোমরা সবাই দেখেছিলে l এটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক সময় ; একে বলা হয় কারণ ছাড়াই রক্তপাত ! এইসব দেখার জন্য তোমাদের অনেক সাহস প্রয়োজন l তোমাদেরই ৮৪ জন্মের কাহিনী l আমরা সেই দেবী-দেবতা, যারা রাজ্য শাসন করেছি, তারপর মায়ার বশবর্তী হয়ে বিকারের পথে ভূপতিত হয়েছি l আমরা আবারও একবার দেবী-দেবতা হচ্ছি l ক্রমাগত এটা স্মরণ করতে থাকলে তোমাদের তরী পার হয়ে যাবে l এটাই স্ব-দর্শনচক্র, তাই না ! আচ্ছা -
মিষ্টি -মিষ্টি হারানিধি (সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ এবং গুড মর্নিং l রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার l*ধারণার জন্য মুখ্য সারঃ-*১) বাবাসম সর্বগুণের ফুল হতে হবে l নিজেদের মধ্যে খুব ভালবেসে থাকতে হবে l কখনও কাউকে দুঃখ দিওনা l২) চলতে ফিরতে বাবাকে স্মরণের অভ্যাস করতে হবে l স্মরণে থেকে বিশ্বে শান্তির দান দিতে হবে lবরদান:-সঙ্গমযুগে অবিরত প্রত্যক্ষ এবং তাজা ফল খেয়ে শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যবান ভব*সঙ্গমযুগেরই বিশেষত্ব যেখানে একের শতগুণ প্রাপ্তি হয় এবং প্রত্যক্ষ ফলও লাভ হয় l এখনই সেবা করে এখনই খুশিরূপী ফলের প্রাপ্তি l সেইজন্য যারা প্রত্যক্ষ ফল অর্থাত্ তাজা ফল খায় তারাই শক্তিশালী বা সুস্বাস্থ্যের পরিচায়ক হয় l কোনও দুর্বলতা তাদের কাছে আসতে পারেনা l দুর্বলতা তখনই আসে যখন অমনোযোগী হয়ে কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে থাকে l অ্যালার্ট থাকলে সর্বশক্তি সাথে থাকবে এবং সর্বদা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী থাকবে lস্লোগান:-এক ব্রহ্মাবাবাকেই ফলো করো এবং অন্য সকলের গুণ গ্রহণ করো l*
০৬-০৫-১৭ প্রাতঃমুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment