০৭-০৫-১৭ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি " অব্যক্ত
বাপদাদা" রিভাইস : ২৭-০৩-৮২ মধুবন
শব্দের ঊর্ধ্বে নিবাসরত বাবা , শব্দের দুনিয়ায় শব্দ দ্বারা সর্বকে শব্দের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাচ্ছেন । বাপদাদার
আগমন হয়-ই সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্যে । তো সবাই সঙ্গে যাওয়ার জন্যে এভাররেডি হয়েছ
নাকি এখনও রেডি হতে সময় চাই ?
সঙ্গে যাওয়ার জন্যে বিন্দু হতে হবে। আর বিন্দু হতে গেলে সকল প্রকারের বিস্তারিত অর্থাৎ অনেক শাখা-প্রশাখার বৃক্ষকে বীজ রূপে সমায়িত করে বীজরূপ স্থিতি অর্থাৎ বিন্দুতে সবাইকে সমায়িত করতে হবে। লৌকিক রীতিতেও যখন বৃহৎ বিস্তারের হিসেব করো তো সমস্ত হিসেব শেষ করে লাস্টে কি বলা হয় ? বলা হয় -- বলো শিব অর্থাৎ বিন্দু। এমন সৃষ্টি চক্র বা কল্প বৃক্ষের অন্দরে আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত কত হিসাব নিকেশের বিস্তারে এসেছ। নিজের হিসাব নিকেশের শাখা অথবা বিস্তার রূপী বৃক্ষকে জানো তাইনা ! দেহের হিসাবের শাখা , দেহের সম্বন্ধের শাখা , দেহের বিভিন্ন পদার্থে বন্ধনী আত্মা হওয়ার শাখা , ভক্তি মার্গ এবং গুরুদের বন্ধনের শাখা , বিভিন্ন প্রকারের বিকর্মের বন্ধনের শাখা , কর্মভোগের শাখা , কতখানি বিস্তার হয়ে গেল । এখন এই সমস্ত বিস্তারকে বিন্দু স্বরূপে বিন্দু লাগাচ্ছ । সমস্ত বিস্তারকে বীজরূপে সমায়িত করেছ নাকি এখনও বিস্তার রয়েছে ? এই জর্জরিভূত বৃক্ষের কোনোরকম শাখা থেকে যায়নি তো । সঙ্গমযুগ হলই পুরানো বৃক্ষের সমাপ্তির যুগ। তো হে সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণ ! পুরানো বৃক্ষকে সমাপ্ত করেছ ?যেমন প্রতিটি পাতায় জল দেওয়া সম্ভব নয়, বীজকে দিলেই সকল পাতায় জল পৌঁছে যায় । তেমনই এত ৮৪ জন্মের বিভিন্ন প্রকারের হিসেব নিকেশের বৃক্ষকে সমাপ্ত করতে হবে। এক-একটি শাখা সমাপ্ত করতে হয়না । আজ দেহের স্মৃতির শাখা সমাপ্ত করো আর কাল দেহের সম্বন্ধের শাখা সমাপ্ত করো , এইভাবে এক-একটি শাখা সমাপ্ত করলে সমাপ্তি হবেনা । কিন্তু বীজ বাবার সঙ্গে যোগ লাগিয়ে যোগের অগ্নি দ্বারা সহজেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। কাটতে হবেনা ভস্মীভূত করতে হবে। আজকে কাটবে কিছু সময় পরে পুনরায় প্রকট হয়ে যাবে কারণ পরিবেশের দ্বারা বৃক্ষটি সহজ ভাবে ন্যাচারাল পোষণ প্রাপ্ত করবে। যখন বৃক্ষটি সবল হয় তখন বিশেষ ভাবে পোষণ করার প্রয়োজন হয়না । ন্যাচারাল পরিবেশের প্রভাবে বৃক্ষ বাড়তেই থাকে বা সোজা দাঁড়িয়ে থাকে। তো এই বিস্তারিত জর্জরিভূত বৃক্ষটিকে এখন জল বা পোষণ করার প্রয়োজন নেই। এটি অটোমেটিক বৃদ্ধি পায়। তোমরা ভাবো যে পুরুষার্থ দ্বারা আজ থেকে দেহের সম্বন্ধের স্মৃতি রূপী শাখা শেষ করেছি কিন্তু ভস্মীভূত না করে পুনরায় শাখা বেরিয়ে আসে। তখন নিজেই নিজেকে বলো কিংবা বাবাকে গিয়ে বলো যে আমি তো সমাপ্ত করে দিয়েছিলাম তবে আবার ফিরে এলো কিভাবে ! প্রথমে তো ছিলনা তাহলে হল কিভাবে । কারণ ? কেটেছিলে , ভস্ম করোনি। আগুনে পোড়া বীজ কখনও ফল দেয়না। তো এই হিসেব-নিকেশের বিস্তারিত বৃক্ষকে যোগের অগ্নি দ্বারা সমাপ্ত করো । তাহলে কি থাকবে? দেহ এবং দেহের সম্বন্ধ বা পদার্থের বিস্তার শেষ হলে বাকি কি থাকবে বিন্দু আত্মা বা বীজ আত্মা । যখন এমন বিন্দু , বীজ স্বরূপ হয়ে যাবে তখন শব্দের ঊর্ধ্বে গিয়ে বীজরূপ বাবার সঙ্গে যেতে পারো তাই জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে শব্দের ঊর্ধ্বে যাওয়ার জন্যে রেডি হয়েছ ? বিস্তারকে সমাপ্ত করেছ ? বীজরূপ বাবা বীজ স্বরূপ আত্মাদের-ই নিয়ে যাবেন। বীজ স্বরূপ হয়েছ কি ? যে এভাররেডি হবে তার এখন থেকেই অলৌকিক অনুভূতি হবে । কি হবে ?
সঙ্গে যাওয়ার জন্যে বিন্দু হতে হবে। আর বিন্দু হতে গেলে সকল প্রকারের বিস্তারিত অর্থাৎ অনেক শাখা-প্রশাখার বৃক্ষকে বীজ রূপে সমায়িত করে বীজরূপ স্থিতি অর্থাৎ বিন্দুতে সবাইকে সমায়িত করতে হবে। লৌকিক রীতিতেও যখন বৃহৎ বিস্তারের হিসেব করো তো সমস্ত হিসেব শেষ করে লাস্টে কি বলা হয় ? বলা হয় -- বলো শিব অর্থাৎ বিন্দু। এমন সৃষ্টি চক্র বা কল্প বৃক্ষের অন্দরে আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত কত হিসাব নিকেশের বিস্তারে এসেছ। নিজের হিসাব নিকেশের শাখা অথবা বিস্তার রূপী বৃক্ষকে জানো তাইনা ! দেহের হিসাবের শাখা , দেহের সম্বন্ধের শাখা , দেহের বিভিন্ন পদার্থে বন্ধনী আত্মা হওয়ার শাখা , ভক্তি মার্গ এবং গুরুদের বন্ধনের শাখা , বিভিন্ন প্রকারের বিকর্মের বন্ধনের শাখা , কর্মভোগের শাখা , কতখানি বিস্তার হয়ে গেল । এখন এই সমস্ত বিস্তারকে বিন্দু স্বরূপে বিন্দু লাগাচ্ছ । সমস্ত বিস্তারকে বীজরূপে সমায়িত করেছ নাকি এখনও বিস্তার রয়েছে ? এই জর্জরিভূত বৃক্ষের কোনোরকম শাখা থেকে যায়নি তো । সঙ্গমযুগ হলই পুরানো বৃক্ষের সমাপ্তির যুগ। তো হে সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণ ! পুরানো বৃক্ষকে সমাপ্ত করেছ ?যেমন প্রতিটি পাতায় জল দেওয়া সম্ভব নয়, বীজকে দিলেই সকল পাতায় জল পৌঁছে যায় । তেমনই এত ৮৪ জন্মের বিভিন্ন প্রকারের হিসেব নিকেশের বৃক্ষকে সমাপ্ত করতে হবে। এক-একটি শাখা সমাপ্ত করতে হয়না । আজ দেহের স্মৃতির শাখা সমাপ্ত করো আর কাল দেহের সম্বন্ধের শাখা সমাপ্ত করো , এইভাবে এক-একটি শাখা সমাপ্ত করলে সমাপ্তি হবেনা । কিন্তু বীজ বাবার সঙ্গে যোগ লাগিয়ে যোগের অগ্নি দ্বারা সহজেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। কাটতে হবেনা ভস্মীভূত করতে হবে। আজকে কাটবে কিছু সময় পরে পুনরায় প্রকট হয়ে যাবে কারণ পরিবেশের দ্বারা বৃক্ষটি সহজ ভাবে ন্যাচারাল পোষণ প্রাপ্ত করবে। যখন বৃক্ষটি সবল হয় তখন বিশেষ ভাবে পোষণ করার প্রয়োজন হয়না । ন্যাচারাল পরিবেশের প্রভাবে বৃক্ষ বাড়তেই থাকে বা সোজা দাঁড়িয়ে থাকে। তো এই বিস্তারিত জর্জরিভূত বৃক্ষটিকে এখন জল বা পোষণ করার প্রয়োজন নেই। এটি অটোমেটিক বৃদ্ধি পায়। তোমরা ভাবো যে পুরুষার্থ দ্বারা আজ থেকে দেহের সম্বন্ধের স্মৃতি রূপী শাখা শেষ করেছি কিন্তু ভস্মীভূত না করে পুনরায় শাখা বেরিয়ে আসে। তখন নিজেই নিজেকে বলো কিংবা বাবাকে গিয়ে বলো যে আমি তো সমাপ্ত করে দিয়েছিলাম তবে আবার ফিরে এলো কিভাবে ! প্রথমে তো ছিলনা তাহলে হল কিভাবে । কারণ ? কেটেছিলে , ভস্ম করোনি। আগুনে পোড়া বীজ কখনও ফল দেয়না। তো এই হিসেব-নিকেশের বিস্তারিত বৃক্ষকে যোগের অগ্নি দ্বারা সমাপ্ত করো । তাহলে কি থাকবে? দেহ এবং দেহের সম্বন্ধ বা পদার্থের বিস্তার শেষ হলে বাকি কি থাকবে বিন্দু আত্মা বা বীজ আত্মা । যখন এমন বিন্দু , বীজ স্বরূপ হয়ে যাবে তখন শব্দের ঊর্ধ্বে গিয়ে বীজরূপ বাবার সঙ্গে যেতে পারো তাই জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে শব্দের ঊর্ধ্বে যাওয়ার জন্যে রেডি হয়েছ ? বিস্তারকে সমাপ্ত করেছ ? বীজরূপ বাবা বীজ স্বরূপ আত্মাদের-ই নিয়ে যাবেন। বীজ স্বরূপ হয়েছ কি ? যে এভাররেডি হবে তার এখন থেকেই অলৌকিক অনুভূতি হবে । কি হবে ?
চলতে - ফিরতে , উঠতে-বসতে , কথা-বার্তায় প্রথম অনুভূতি -- এই শরীর যে হিসেব-নিকেসের বৃক্ষের মূল কান্ড যার বিভিন্ন শাখা প্রকট হয় , এই দেহ আর আত্মা রূপী বীজ দুটি-ই একেবারে ভিন্ন। এমন আত্মা ডিট্যাচ স্থিতির বারবার অনুভব করবে। নলেজের আধারে নয় যে আত্মা এবং শরীর দুটি ভিন্ন কিন্তু শরীর থেকে পৃথক আমি হলাম আত্মা । *এই দুটি পৃথক বস্তুর অনুভূতি হবে*। যেমন স্থূল শরীরের বস্ত্র এবং বস্ত্রধারী শরীর আলাদা অনুভব হয় , তেমনই আমি আত্মা আমার বস্ত্র হল এই শরীর , আমি হলাম বস্ত্রধারী আত্মা । এমন স্পষ্ট অনুভব হবে। যখন চাইবে এই দেহ-ভান রূপী বস্ত্র ধারণ করবে , যখন চাইবে এই বস্ত্র থেকে ডিট্যাচ অর্থাৎ দেহ-ভান থেকে ডিট্যাচ স্থিতিতে স্থির হয়ে যাবে। এমন ডিট্যাচ স্থিতির অনুভূতি হয় ? বস্ত্রকে আমি ধারণ করি বা বস্ত্র আমায় ধারণ করে , চৈতন্য কে ? মালিক কে ? তো একটি প্রমাণ চিহ্ন হল ডিট্যাচ অনুভূতি । পৃথক হতে হবেনা কিন্তু আমি আত্মা হলাম-ই পৃথক ।
দ্বিতীয় চিহ্ন বা অনুভূতি -- যেমন ভক্তদের বা আত্ম-জ্ঞানীদের বা কোনো কোনো পরমাত্ম-জ্ঞানীদের দিব্য দৃষ্টি দ্বারা জ্যোতির্বিন্দু আত্মার সাক্ষাৎকার হয় , তো সেই সাক্ষাৎকার হল অল্পকালের জন্যে , সাক্ষাৎকার কোনো নিজের অধ্যাবসায়ের ফল নয়। এতো হল ড্রামাতে পার্ট বা বরদান। কিন্তু এভাররেডি অর্থাৎ সাথে চলার জন্যে সমান রূপের আত্মা সাক্ষাৎকার দ্বারা আত্মাকে দেখবেনা কিন্তু বুদ্ধিযোগ দ্বারা সর্বদা স্বয়ংকে সাক্ষাৎ জ্যোতি বিন্দু আত্মা অনুভব করবে। সাক্ষাৎ স্বরূপে পরিণত হওয়া অর্থাৎ সদাকালের জন্যে আর সাক্ষাৎকার করা অর্থাৎ অল্পকালের জন্যে । সাক্ষাৎ স্বরূপ আত্মা কখনোই এই কথা বলবেনা যে আমি আত্মার সাক্ষাৎকার করিনি। আমি দেখিনি । কিন্তু সে অনুভবের দ্বারা সাক্ষাৎ রূপের স্থিতিতে স্থির হয়ে থাকবে। যেখানে সাক্ষাৎ স্বরূপ হবে সেখানে সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন নেই। *এমন সাক্ষাৎ আত্মা স্বরূপের অনুভূতিকারী -- অথোরিটির সঙ্গে নিশ্চয়ের সঙ্গে বলবে যে আমি আত্মাকে দেখেছি অনুভব-ও করেছি কেননা দেখার পরেও যদি অনুভব না করো তাহলে দেখার কোনো লাভ নেই। তো এমন সাক্ষাৎ আত্ম অনুভবী চলতে - ফিরতে নিজের জ্যোতি স্বরূপের অনুভব করতে থাকবে*।
তৃতীয় অনুভূতি -- এমন সমান আত্মা অর্থাৎ এভাররেডি আত্মা -- সাকারী দুনিয়া এবং সাকারী শরীরে অবস্থিত হওয়া সত্বেও *বুদ্ধিযোগের শক্তি দ্বারা সর্বদা এমন অনুভব করবে যে আমি আত্মা সুূক্ষ্মবতনে থাকি বা মূলবতনে, সেখানে থাকি বাবার সঙ্গে*। সেকেন্ডে সূক্ষবতনবাসী, সেকেন্ডে মূলবতনবাসী, সেকেন্ডে সাকার বতন বাসী হয়ে কর্মযোগী স্বরূপে কর্মের পার্ট প্লে করি , কিন্তু তারা অনেক বার নিজেকে বাবার সঙ্গে সুক্ষবতনে এবং মূলবতনে অবস্থান করার অনুভব করবে। অবসর পেলেই মূলবতন এবং সুক্ষবতনে চলে যাবে। অফিসের কাজ শেষ হলে বাড়ি যাবে তো , নাকি অফিসেই বসে থাকবে। এমন এভাররেডি আত্মারা বারবার নিজেদের নিজের বাড়িতে বসবাসকারী অনুভব করবে। যেন বাড়িটি একেবারে সামনে রয়েছে । এখনই এখানে , এখনই ওখানে । সাকারী বতনের কক্ষ থেকে বেরিয়ে মূলবতনের কক্ষে চলে যাওয়া।
আরও অনুভূতি -- *এইরকম সমান আত্মা বন্ধনমুক্ত হওয়ার দরুন এমন অনুভব করবে যেন উড়ন্ত পাখি রূপে উঁচু থেকে উঁচুতে উড়ে যাচ্ছে আর উঁচু স্থিতি রূপী স্থানে বিরাজিত অনুভব করবে যে সবকিছু নীচে রয়েছে । আমি সবচেয়ে উঁচুতে রয়েছি*। যেমন বিজ্ঞানের শক্তি দ্বারা স্পেসে বা অন্তরিক্ষে চলে যায় ধরনীর আকর্ষণ নীচে রয়ে যায় আর নিজেকে সবচেয়ে উপরে অনুভব ক'রে এবং হালকা অনুভব ক'রে । তেমনই সাইলেন্সের শক্তি দ্বারা নিজেকে বিকারের আকর্ষণ বা প্রকৃতির আকর্ষণ ইত্যাদির ঊর্ধ্বে উড়ন্ত স্টেজ অর্থাৎ সর্বদা ডবল লাইট রূপ অনুভব করবে। উড়ন্ত স্থিতির অনুভূতি হল সব আকর্ষণ থেকে ঊর্ধ্বে। সর্ব বন্ধন থেকে মুক্ত । এই স্থিতির অনুভূতি হওয়া অর্থাৎ উঁচুতে উড়ন্ত কলা বা উড়ন্ত স্থিতির অনুভব হওয়া। চলতে ফিরতে থাকছে , উড়ছে , বাবাও বিন্দু , আমিও বিন্দু , দুজনেই সাথে সাথে যাচ্ছে । সমান আত্মার এইরকম অনুভব স্পষ্ট হবে যেন চোখে দেখছে। অনুভূতির চোখ দিয়ে দেখা , দিব্য দৃষ্টি দ্বারা দেখার চেয়েও স্পষ্ট হয় , বুঝলে ? এমনিতেই বিস্তার অনেক তবুও সারাংশে অল্প লক্ষণ গুলি বলা হল। তাহলে এমন এভাররেডি হয়েছ অর্থাৎ অনুভবী স্বরূপ হয়েছ ? সঙ্গে যাওয়ার জন্যে তৈরী হয়েছ কি নাকি বলবে এখনও কিছু রয়ে গেছে । এমন অনুভূতি হয় তো নাকি সেবায় এত বিজি হয়েছ যে বাড়ি কে ভুল যাও। সেবাও এইজন্যই করো যে আত্মাদের মুক্তি বা জীবনমুক্তির বর্সা প্রাপ্ত করাতে পারো।
সেবায় এই স্মৃতি যেন থাকে যে বাবার সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে , তাহলেই সেবায় সর্বদা অচল স্থিতি থাকতে পারে। সেবার বিস্তারে সার রূপী বীজের অনুভূতিটি ভুলে যেওনা। বিস্তারে হারিয়ে যেও না। বিস্তারে আসার সাথে স্বয়ং সার স্বরূপে স্থির হয়ে থাকো আর অন্যদেরও সার স্বরূপের অনুভূতি করাও । বুঝলে -- আচ্ছা ।
এমন সদা সাক্ষাত আত্ম স্বরূপের অনুভবের প্রতিমূর্তি, সদা সর্ব হিসাব নিকাশের বৃক্ষকে সমাপ্ত করে বিন্দু লাগিয়ে বিন্দু রূপে স্থিত হয়ে , বিন্দু বাবার সঙ্গে বসবাসকারী , এখনই কর্মযোগী , এখনই সুক্ষবতনবাসী , এখনই মূলবতনবাসী এমনই সদা অভ্যাসী আত্মা , সর্বদা নিজের উড়ন্ত কলার অনুভবী আত্মা , এমন বাবা সমান এভাররেডি আত্মাদের বাপদাদার স্নেহপূর্ণ স্মরণ এবং নমস্কার ।
*পার্টিদের* *সঙ্গে* :- ( *পাঞ্জাব* *এবং* *গুজরাট* *জোন*)
১) *মায়ার* *ছায়া* *থেকে* *সুরক্ষিত* *থাকতে* *ছত্রছায়ার* *অন্দরে* *থাকো* :-
সর্বদা নিজের উপরে বাবার স্মরণের ছত্রছায়া অনুভব করো কি ? স্মরণের ছত্রছায়া রয়েছে ? এই ছত্রছায়া-টি কখনও ছেড়ে দাওনা তো ? যে আত্মারা সর্বদা ছত্রছায়ার অন্দরে থাকে তারা সর্ব প্রকারের মায়ার বিঘ্ন থেকে সুরক্ষিত থাকে। কোনোভাবেই মায়ার ছায়া পড়বেনা। এই পাঁচটি বিকার , শত্রু রূপের পরিবর্তে দাস রূপে সেবাধারী স্বরূপে পরিণত হয়। যেমন বিষ্ণুর চিত্রে দেখান হয়েছে যে সর্প-শয্যা এবং সর্প-ই ছত্রছায়ায় পরিণত হয়েছে। এই হল বিজয়ের চিহ্ন । তাহলে এইটি কাদের চিত্র ? তোমাদের সবার চিত্র তাইনা ! যাদের পরাজিত করে বিজয় লাভ করা হয় তারা-ই শত্রু থেকে সেবাধারী রূপে পরিণত হয়। এমন বিজয়ী রত্ন হয়েছ । শক্তিরাও গৃহস্থ মাতা রূপ থেকে শক্তি সেনার শক্তি রূপে পরিণত হয়েছে। শক্তিদের চিত্রে রাবণের বংশের দৈত্য গুলিকে শক্তির চরণ-তলে দেখান হয়েছে। শক্তিরা অসুরদের নিজ পদতলে দমন করেছে। শক্তি কোনোরকম বিকারী সংস্কারকে উপরে উঠে আসতেই দেবেনা ।
২) *জ্ঞানের* *দান* *ক'রে* *এমন* *সত্যিকারের* *মহাদানী* *হও* :-
সর্বদা বুদ্ধি দ্বারা জ্ঞান-সাগরের তীরে অবস্থানকারী অর্থাৎ নিজেকে জ্ঞান - সাগরের কাছে প্রাপ্ত অসীম খাজানার মালিক ভাবো কি ? সাগর যেমন সম্পন্ন , অসীম , অখন্ডিত তেমনই আত্মারাও হল মাস্টার , অখন্ডিত , অসীমিত খাজানার মালিক । যে খাজানা প্রাপ্ত হয়েছে সেইসব মহাদানী স্বরূপ ধারণ করে অন্যদের প্রতি কাজে লাগাতে থাকো। সম্বন্ধ সম্পর্কে যে আত্মারা ভক্ত রূপে বা সাধারণ আত্মা রূপে কাছে আসে তাদের প্রতি সর্বদা এই আশা-ই যেন থাকে যে তারা যেন ভক্তির ফল প্রাপ্ত ক'রে , অসহায় হয়ে এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে হয়রান হচ্ছে , তাদের হয়রানি দেখে দয়া অনুভব হয় তাইনা ! যে যত দয়ালু হবে ততই অসহায় আত্মাদের সহজ পথ বলে দেবে। সংবাদ দিয়ে চলো - কেউই তো জ্ঞানে আসছেনা এইরকম ভেবোনা । তোমরা মহাদানী হও , সংবাদ দিতে থাকো, কোনো নালিশ যেন না থাকে। অবিনাশী এই জ্ঞানের কোনো বিনাশ নেই। আজ শুনবে , একমাস পরে ভাববে আর তারপর ভাবতে ভাবতে কাছে আসবে তাই কখনও মনে মনে হার মানবেনা। যে ক'রে তার ভবিষ্যত গড়ে। আর যার করবে তারাও আজ নয়তো কাল মানবে নিশ্চয়ই । তাই অক্লান্ত ভাবে অটুট সেবা করতে থাকো। কখনও ক্লান্ত হোয়োনা কেননা বাপদাদার কাছে সকলেরই জমা হয় আর যা কিছু করো তার প্রত্যক্ষ ফল খুশীও প্রাপ্ত করো।
৩) *পরিবেশকে* *পাওয়ারফুল* *রাখার* *লক্ষ্য* *রাখলে* *সেবায়* *বৃদ্ধির* *লক্ষণ* *দেখা* *দেবে* :-
*যেমন মন্দিরের পরিবেশ দূর থেকেই আকৃষ্ট করে , তেমনই স্মরণের সৌরভে সুরভিত পরিবেশ এমনই শ্রেষ্ঠ হয় যে আত্মাদের দূর থেকেই আকৃষ্ট ক'রে যে এইটি হল কোনো বিশেষ স্থান। সর্বদা স্মরণের শক্তি দ্বারা স্বয়ংকে এগিয়ে নিয়ে চলো আর তার সাথে পরিবেশকেও শক্তিশালী করে তোলো*। সেবাকেন্দ্রের পরিবেশ এমনই যেন হয় যে সব আত্মারাই আকৃষ্ট হয়ে আসবে। সেবা শুধু বানী দ্বারা-ই হয়না , মন্সা দ্বারাও সেবা করো। প্রত্যেকে ভাববে আমাকে পরিবেশ পাওয়ারফুল করতে হবে , আমাদেরই দায়িত্ব । যখন এমন লক্ষ্য রাখবে তখন সেবায় বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা দেবে। আসতে তো সবাইকেই হবে , এটাতো একেবারে পাক্কা । কিন্তু কেউ সোজা চলে আসে , কেউ চক্কর লাগিয়ে , ঘুরে হয়রান হয়ে আসে তাই প্রত্যেকে ভাববে যে আমি হলাম জাগ্রত জ্যোতি স্বরূপ এমন প্রদীপ যে বহ্নি পতঙ্গ আপনা থেকেই আসবে। তোমরা জাগ্রত জ্যোতি হয়ে বসলে পতঙ্গ আপনা আপনি আসবে। আচ্ছা ।
বরদান:
পরমাত্ম প্রেম এবং অধিকারের অলৌকিক খুশী এবং
নেশায় স্থিত থাকে এমন সর্ব প্রাপ্তি সম্পন্ন ভব* ।
যে বাচ্চারা বাবার সঙ্গে সর্বদা কম্বাইন্ড
থেকে , স্নেহের সাথে বলে 'আমার বাবা ' তাদের পরমাত্ম অধিকার প্রাপ্ত হয়ে যায়।
বেহদের দাতা সর্ব প্রাপ্তিতে সম্পন্ন করে দেন। ত্রিলোক অধিকারী হয়ে যায়। তারপর এই
গান গাইবে যে যা পাওনা ছিল প্রাপ্তি হয়েছে , এখন আর কিছু
প্রাপ্তির জন্যে বাকি নেই। তারা ২১ জন্মের গ্যারান্টি কার্ড পেয়ে যায়। তো এই
অলৌকিক খুশী এবং নেশায় থাকো যে সবকিছু পাওয়া হয়ে গেছে ।
স্লোগান:-
সাধনের আধারে যেন সাধনা না হয়। সাধন যেন সাধনায়
বিঘ্ন না ঘটায়* ।
No comments:
Post a Comment